Logo

হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার চেষ্টা চলবে: ডা. জাহেদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২২
হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার চেষ্টা চলবে: ডা. জাহেদ
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এমন ষড়যন্ত্র ও নাশকতার প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং এর পেছনে সম্ভাব্য উসকানিদাতাদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান জানান, সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা ও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। অতীতে ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে নতুন করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেভাগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। এতে কোনো ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এবং এর সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সরকার সহানুভূতিশীল হয়েই আগেই এই কমিশন তৈরি করেছে। ফলে সমস্যাটার মূল আন্দোলনের যে দাবি, সেটা তো আসলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান কর্মসূচিতে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রকৃত শ্রমিকদের আচরণের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস কর্মকাণ্ডের মিল নেই। এসব ঘটনার পেছনে অন্য পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আওয়ামী লীগের সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা সীমিত থাকলেও দলটির কাছে থাকা বিপুল অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

বিজ্ঞাপন

ডিসেম্বর নয়, অস্থিরতার চেষ্টা চলতে পারে দীর্ঘ সময়

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতেই পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে শুধু ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখছে না সরকার।

তিনি বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর না। এটা পুরো সময়, যতদিন উনি বেঁচে আছেন, উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।’

বিজ্ঞাপন

এ সময় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। অতীতের সেই রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন এখনো থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শেখ হাসিনা ফিরলে আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরে এলে তাঁর আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হবে। সে ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উনি যদি এসে হাজির হন, তারপর একটা মঙ্গলবার নিশ্চয়ই আসবে। সেই মঙ্গলবার আমি আশা করি, যদি বেঁচে থাকি এবং আমি যদি এই দায়িত্বে থাকি, আমি আসব। সেদিন আমি অ্যাপোলজাইজ করব, আমার ইন্টারপ্রিটেশন ভুল ছিল।’

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ চায় না সরকার

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে উপদেষ্টা জানান, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পদ্ধতি অনুসরণ করতে আগ্রহী নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন মেনে এবং আনুপাতিক মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ কখনোই হাসিনার পুলিশের মতো আর হবে না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও আনুপাতিকতার নীতি অনুসরণ করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের দৃশ্য সামনে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের সময় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আন্দোলনে কারা যুক্ত হচ্ছেন এবং কীভাবে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাধারণ জনগণ যাতে অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।

শ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা

পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন দ্রুত থেমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, আন্দোলনের শুরুতে শ্রমিকদের কিছু যৌক্তিক দাবি ছিল। সরকার আগেভাগে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকেরা আন্দোলন থেকে সরে এলে তাঁদের দাবিকে কেন্দ্র করে অন্য কোনো পক্ষের অস্থিরতা তৈরির সুযোগও কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টস কর্মীরা মাঠে নেমেছেন, সেটার ভেতরে থেকে কেউ এ কাজটি করছে। তারা না নামলে এটার সমস্যা হয় না।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD