Logo

কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪২
কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ অংশ নিতে দুই দিনের সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর হবে সংক্ষিপ্ত। দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান নগণ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে।

গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগও সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ।

বিজ্ঞাপন

শামা ওবায়েদ বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তা-ও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’

সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কপ৩১-এ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন।

এবারের সম্মেলনের আয়োজক ও আনুষ্ঠানিক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তুরস্ক। তবে সম্মেলনের মূল আলোচনা এবং জলবায়ু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক দরকষাকষির সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকবে অস্ট্রেলিয়া।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD