Logo

এআইয়ের কারণে বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকি, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৩:২৮
এআইয়ের কারণে বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকি, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার যেন বাংলাদেশের বিদ্যমান বেকারত্বের সংকটকে আরও গভীর না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষের কল্যাণ, মানুষের জায়গা দখল করা নয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। এআইয়ের অগ্রগতি যেন মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এআই বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। আয়োজনটির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, পৃথিবী এখন বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানও প্রভাবিত হবে। তাই এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

তিনি বলেন, এআই শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বড় সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিল্প খাতের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, একটি দেশ কত দ্রুত নতুন জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে গ্রহণ করতে পারে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে সেই দেশের ভবিষ্যৎ। বর্তমান বিশ্বে নতুন জ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এআই। বিদ্যুতের আবিষ্কার যেমন সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও তেমনি বিশ্বকে রূপান্তরিত করছে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনের গতি আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

তবে এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এই সংকট আরও বাড়িয়ে না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণকে এগিয়ে নেবে—এমন ব্যবস্থাই গড়ে তুলতে হবে।

দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তরুণেরা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের সামর্থ্য রাখেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তবে এই পরিবর্তনের সুফল পেতে হলে তাঁদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তৈরি পোশাকশিল্পের মতো এআই খাতও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, এআইশিল্পে সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে বিশ্ববাজারে নতুন অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, এআইকে কেবল ব্যয় কমানোর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম সমন্বিতভাবে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনেও অগ্রগতি আসবে।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে দেশ শুধু এআই ব্যবহারে দক্ষ হবে না, বরং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল দেশ নয়; বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবননির্ভর ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি আয়োজনটির সফলতা কামনা করে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD