Logo

রাজউকের সাঁড়াশি অভিযানে ফিরছে সরকারি জমি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১:৫৩
রাজউকের সাঁড়াশি অভিযানে ফিরছে সরকারি জমি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাকে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবৈধ ভবন নির্মাণ, নকশা বহির্ভূত সম্প্রসারণ এবং সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজউক সূত্র জানায়, বিশেষ জরিপে ঢাকা মহানগরীতে নির্মাণাধীন ৩ হাজার ৩৮২টি ভবনে নকশাবহির্ভূত বা অবৈধ অংশ শনাক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—নিয়ম ভেঙে নির্মাণ করা হলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এরই মধ্যে অনেক ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নকশার বাইরে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। রাজউক বলছে, এই অভিযান চলমান থাকবে এবং আইন না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মতিঝিল এলাকায় প্রায় ১১ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এই জমিতে পার্ক ও জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গড়ে ওঠা অবৈধ গ্যারেজ এবং বিধি অনুসরণ না করে তৈরি কিছু সরকারি স্থাপনাও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরা এলাকায় রাজউকের কয়েকশ প্লট অবৈধ দখলে ছিল। চেয়ারম্যান নিজে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তদন্তে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঝিলমিল প্রকল্প ও জলাশয় রক্ষা: মিলেনিয়াম-মধুসিটির মতো বড় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা জলাশয় ও কৃষিজমিও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীতে প্রায় ৩০০টি ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজউক। পুরান ঢাকার বংশাল ও কসাইটুলী এলাকায় পরিদর্শনের সময় চেয়ারম্যান নকশাবিহীন বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, এক কাঠার কম জমিতে রাজউক ভবনের নকশা অনুমোদন দেয় না। অথচ সেখানে ৭-৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা শুধু নগর পরিকল্পনার পরিপন্থী নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

বিজ্ঞাপন

রাজউকের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজউক এখন নতুন প্লট বরাদ্দের চেয়ে বিদ্যমান সম্পদ সংরক্ষণ, দখলমুক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ রাজধানীর জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আইন না মেনে ভবন নির্মাণ বা সরকারি জমি দখল করলে আর পার পাওয়া যাবে না—এমন একটি স্পষ্ট বার্তা ইতোমধ্যে নগরবাসীর কাছে পৌঁছেছে।

রাজউকের এই সাঁড়াশি অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ঢাকাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD