Logo

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার শিবিরের সেই কেন্দ্রীয় নেতা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১৩ জুন, ২০২৬, ১৫:২৮
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার শিবিরের সেই কেন্দ্রীয় নেতা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার একদিন পর উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর দায়ের হওয়া মামলায় জিসান মিয়া প্রধানকে আসামি করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় এক তরুণীকে নিয়ে যান জিসান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই তরুণী গর্ভবতী হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে শুরুতে ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও পরে অভিযুক্ত এড়িয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার জিসানের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসে। তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

তবে তদন্তে নেমে পুলিশ ভিন্ন তথ্য পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং তিনি নিজেই পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার দাবি, আত্মগোপনের কারণ এবং ভুক্তভোগীর আনা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এটি অপহরণের ঘটনা নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আলোচিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD