Logo

আ. লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীর ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন গ্রেফতার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন, ২০২৬, ১৬:৫৪
আ. লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীর ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া শিশির মুন্না (২৮) সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারণা চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাতারে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে জানা যায়, অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহ করা হয়। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাত দেখানোর পাশাপাশি ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলাসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল অভিযান শুরু করে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে শিশির মুন্নাকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি নির্বাচনী প্রচার ভিডিও তৈরি, অনলাইন প্রচারণা পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন শিশির মুন্না। এরপর সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে পাঠানো, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায়িক লেনদেনের অজুহাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি কাতারে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ফিরে এসে আবারও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য শিশির মুন্না নিজেকে বর্তমান প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিতেন। এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অনেককে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় সাক্ষাতের জন্য ডেকে নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের দাবি, এ প্রতারণা চক্রে আরও কয়েকজন সদস্য সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে গ্রেফতার ব্যক্তির এক বোনও রয়েছেন, যিনি বিদেশে অবস্থান করে চক্রটির কার্যক্রমে সহায়তা করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রটির মাধ্যমে আর কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD