Logo

পুলিশের বয়ান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মামলার তদন্তভার গেল ডিবিতে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:২০
পুলিশের বয়ান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মামলার তদন্তভার গেল ডিবিতে
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। নানা প্রশ্ন, আন্দোলন ও অধিকতর তদন্তের দাবির পর কোতোয়ালি থানার বদলে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত আরও স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথি ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের জবানবন্দির বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জবানবন্দিতে তারা এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্যও দিয়েছেন, যা এর আগে পুলিশকে জানানো হয়নি।

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই তরুণ ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

বিজ্ঞাপন

তবে পুলিশের এই বক্তব্য প্রকাশের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষ আরও গভীর তদন্তের দাবি জানায়। এ ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের সদস্যরাও প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র দুজন ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করলেন। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের আরও প্রশ্ন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন ঝুঁকি নিয়ে তাঁর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে গেলেন। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ঘুমন্ত ১২ বছর বয়সী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে কেন হত্যা করা হলো, হত্যার পর অভিযুক্তরা কেন দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেন এবং এর পেছনে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পক্ষ।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন। প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজের নির্মিত দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন তিনি।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক বিস্তারিতভাবে যাচাই করবেন। সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ ও যাচাইয়ের পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD