তফশিলের পরই প্রকাশ্যে আসবে বিএনপি’র বৃহৎ জোট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় নেমেছে বিএনপি। নির্বাচনে আসনভিত্তিক একক প্রার্থী নির্ধারণের পাশাপাশি দলটি এখন জোর দিচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত ও গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার ওপর।
বিজ্ঞাপন
দলটির শীর্ষ পর্যায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে, এবং তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নভেম্বর মাসে দেশে ফিরে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার আগেই জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিতে চায় দলটি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে- তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে কিনা। বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন:
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নেতৃত্বে একটি বৃহৎ জাতীয় জোট গঠনের কাজ চলছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। জোটে তারা আসবে কি আসবে না, সেটি রাজনীতির মাঠেই নির্ধারিত হবে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জোটই হতে পারে ভোটের ফল নির্ধারণের মূল নিয়ামক। কারণ, বহু আসনে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হতে পারে, যেখানে ছোট দলের ভোটও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে একাধিক দল যুক্ত হবে। তবে বিএনপির চ্যালেঞ্জ হবে শরিকদের আসন ছাড় দেওয়া এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞাপন
ইতিমধ্যে বিএনপি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ২০০ আসনে একক প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিয়েছে। পাশাপাশি দলীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। সোমবার ঢাকায় বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন তারেক রহমান।
এদিকে, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণফোরাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, লেবার পার্টি, বিজেপি, এনডিএম, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ একাধিক দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ইসলামপন্থি দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
অন্যদিকে হাটহাজারী মাদরাসা, ছারছীনা দরবার এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বিএনপি। যাতে আলেম সমাজকেও আসন্ন নির্বাচনে পাশে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এখন সেটি কীভাবে গড়ে ওঠে তা সময়ই বলে দেবে। আমরা শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে আছি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানান, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। সবার সঙ্গেই আমরা কথা বলছি।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞাপন
১২-দলীয় জোটের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সবাই জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বেই জোটবদ্ধ হয়ে লড়বেন তারা।
সব মিলিয়ে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বৃহৎ জোটের ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা, যা তফসিল ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক রূপ নেবে বলে জানা গেছে।








