মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারে সরকার: রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার চাইলে এই চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। তাই আলোচনার জন্য চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।
বিজ্ঞাপন
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি ও জ্বালানি খাতে পণ্য আমদানির সম্ভাবনা এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি-রপ্তানিতে একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করা হয়। এই ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি নির্বাচনের ঠিক আগে সম্পাদিত হওয়ায় তখন থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্লেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সে সময় মত দিয়েছিল যে, একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে এ ধরনের বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যাওয়াটা সমীচীন নয়। তাদের মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন করা উচিত ছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, চুক্তির কিছু ধারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। সে কারণে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে সরকার চাইলে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
আরও পড়ুন: শোকজের কবলে এনসিপির ৭ নেতা
তবে তার বক্তব্যের একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে বলেন, এটি সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না।
বিজ্ঞাপন
স্পিকার জানান, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৩০১ বিধি অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল চলমান কার্যক্রম বা সংসদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ে উত্থাপন করা যায়। নতুন কোনো বিষয় উত্থাপন করতে হলে নির্ধারিত নিয়মে নোটিশ দিতে হবে। পরে তা বিবেচনা করা হবে।
এ ঘটনায় সংসদে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তৈরি হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নেওয়ার ইঙ্গিত দেন স্পিকার।








