পরিচয় নিয়ে উত্তেজনা, বক্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি জামায়াত আমিরের

জাতীয় সংসদে নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাতমূলক উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে ফজলুর রহমান নিজের অবদান তুলে ধরতে পারেন, তবে তা করতে গিয়ে অন্য কারও অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে তার অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
আরও পড়ুন: অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সারজিস আলম
বিজ্ঞাপন
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে থাকতে পারবেন না—এমন মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে কোন রাজনৈতিক দল করবেন বা কোন আদর্শ অনুসরণ করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।
ডা. শফিকুর রহমান সংসদের স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে থাকা অসংসদীয় অংশ যেন কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি সংসদে শালীনতা বজায় রেখে যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং এতে জনগণের আস্থা কমে যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদল হিসেবে তারা শুরু থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। তবে এ ধরনের মন্তব্য সংসদের পরিবেশকে অযথা উত্তপ্ত করে তোলে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার জানান, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকলে তা বিধি অনুযায়ী কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।








