বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আসছে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়

দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় কাউন্সিল না হওয়ায় সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহার পর অনুষ্ঠিত হতে পারে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র শূন্য পদ পূরণে চলছে জোর প্রস্তুতি।
বিজ্ঞাপন
সবশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। ফলে বর্তমান কমিটি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। তবে বিভিন্ন কারণে বর্তমানে একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। মৃত্যু, বার্ধক্য, অসুস্থতা ও অবসরের কারণে কমিটির সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমে গেছে। ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ারসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষদিকে মারা যান দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে কমিটিতে থাকা সদস্যদের মধ্যেও অনেকে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। যেমন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া গুরুতর অসুস্থ, আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বয়সজনিত কারণে অনেকটাই আড়ালে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাউন্সিলের পর অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বর্তমানে স্থায়ী কমিটিতে অন্তত পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সদস্যদের একটি অংশ নিষ্ক্রিয় থাকায় নতুন করে কমিটি পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে কিছু পুরনো মুখ বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনা হতে পারে।
এদিকে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের একাধিক নেতা। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা দলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও দলীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখতে নেতৃত্বে নতুনত্ব আনা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটি নতুন কৌশল গ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর এই কাউন্সিল বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নির্ধারণ করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।








