এবার বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সুবিধা পাবে না: সংসদে হাসনাত

দেশ আবারও অতীতের বিভাজন ও সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, সমাজ ও রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তির রেখা টানা হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আবার বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। তবে সেখানে এবার বিএনপি সুবিধা পাবে না, জামায়াত সুবিধা পাবে না, এনসিপি সুবিধা পাবে না। পরাজিত শক্তি সুবিধাভোগী হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে হতাশ হতে হয়। বিশেষ করে যখন ভিন্নমত প্রকাশকারীদের বিভিন্নভাবে চিহ্নিত করা হয়, কিংবা শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হতে দেখা যায়। এসব ঘটনা আমাদের আবারও সেই অন্ধকার সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত ছিল।
সংসদ সদস্য বলেন, শুধু নিজের মত প্রকাশের অধিকারই নয়, দ্বিমত পোষণের অধিকারও গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। মতপ্রকাশের কারণে কাউকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তার ভাষায়, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি ফিরে আসছে। যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাধীন বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মহলের অনেকেই নিজেদের সন্তানদের বিদেশে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন। অথচ দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। তাদের জীবন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের নির্মম খেলা চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হলে শুধু সংসদ ভবন বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সংসদ, মন্ত্রণালয় কিংবা ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের পরিবেশে থেকে জনগণের কষ্ট, দুর্ভোগ ও দৈনন্দিন সংগ্রাম পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান সংকটসহ নানা সমস্যা সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সংসদের ভেতরে বসে অনুভব করা যায় না। কারণ সংসদ সদস্যরা দেশের অন্যতম সুবিধাভোগী শ্রেণির অংশ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে। তাদের জীবন, সংগ্রাম ও প্রত্যাশা বুঝতে হবে। তবেই কার্যকর ও জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।








