নিরপেক্ষ নির্বাচনেই ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই—এ কথা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে আখ্যা দেওয়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাবিবর্জিত।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়-এ অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি শফিকুর রহমান বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে।
বিজ্ঞাপন
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, বিএনপিকে রাজনীতির মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিক অধিকার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে দেশের শ্রমজীবী মানুষ নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় সোচ্চার থাকবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, আসন্ন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আগামী ১ মে নয়াপল্টনে একটি বড় সমাবেশ আয়োজন করবে বিএনপি। এই সমাবেশ শুধু শ্রমিক অধিকার আদায়ের দাবিতে নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক কাজী সেলিম রেজাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র সুসংহত করা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তাদের অগ্রাধিকার।
ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলটি একদিকে যেমন নিজেদের নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতেও প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং জনগণের অধিকারের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করতে চায়।








