Logo

বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে: জামায়াত আমির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০১
বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ধীরে ধীরে সেই রাজনৈতিক পথেই হাঁটছে, যে পথ একসময় দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াত একইভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিএনপির আচরণে সেই অতীতের শিক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করে বিএনপি কখনো তাদের জায়গা নিতে পারবে না; বরং সর্বোচ্চ ‘দুর্বল আওয়ামী লীগ’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দল ও ভিন্নমতকে অবজ্ঞা ও বিদ্রূপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। বিএনপিও যদি একই পথ অনুসরণ করে, তবে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।

জামায়াত আমির আরও বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বিরোধিতা করছে। তার মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক মতভেদ নয়, বরং জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলটি নিজস্ব সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক অবস্থান নিচ্ছে। এতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ না হলে আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না। যারা আজ ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছেন, তাদের উচিত এই আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের পরপরই শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে কিছু রাজনৈতিক দল ক্ষমতা অর্জনের প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এতে জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। এটি ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল। কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা বাস্তবতাবিবর্জিত।

তিনি বলেন, ছাত্র, শ্রমিক, নারী, অভিভাবক—সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। তাই এর প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব।

সংসদে জামায়াতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি প্রথম দিন থেকেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে যেসব আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন জরুরি, সেগুলো বহাল রাখার পক্ষেই বিএনপি অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনাতেও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এসব ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকারের মধ্য দিয়েই বিএনপি ফ্যাসিবাদী প্রবণতার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনাবিরোধী।

শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত এমন বাংলাদেশ চায়, যেখানে নাগরিকরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন; শিশু-কিশোররা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই-খাতা নিয়ে যাবে, কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা থাকবে না।

তিনি শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, ভয় ও সহিংসতার নয়।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন শুধু সংসদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনে রাজপথেও তা চলবে। কারণ, জুলাই কেবল একটি মাস নয়—এটি পরিবর্তনের প্রতীক, যা প্রয়োজনে আবারও ফিরে আসতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD