জামায়াত-শিবির নয়, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ হয় বিএনপির সঙ্গেই

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ কিংবা পরামর্শ হয়নি। বরং সে সময় আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে বিএনপির নেতাদের সঙ্গেই সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর কিছু ভূমিকা তিনি স্বীকার করলেও ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, এমনকি কোনো পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাজ করতে হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাইয়ের আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, ওই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি ফুটবল ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করলেই কেউ সেরা খেলোয়াড় হয়ে যায় না; যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই করেছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানই আসল। তারা কোনো ‘কিংস পার্টি’ গঠনের উদ্দেশ্যে জীবন দেননি।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়টি ছিল সবচেয়ে কঠিন। এই সময়ের জন্য আট দফা কর্মসূচি তিনি নিজেই প্রণয়ন করেছিলেন। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯ জুলাই রাতে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভূয়সী প্রশংসা করে নুর বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত রেখেছেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার অনেক দিক বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
নুরুল হক নুর রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অযথা বিরোধিতার রাজনীতি থেকে সরে আসা প্রয়োজন। সত্যকে আড়াল করা বা মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করাকে তিনি অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা হিসেবে আখ্যা দেন।
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী পাঁচ বছর সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনা এবং ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতা করা উচিত, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও সুদৃঢ় হয়।








