Logo

দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন নাহিদ ইসলাম: রাশেদ খান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:১৬
দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন নাহিদ ইসলাম: রাশেদ খান
রাশেদ খান । ফাইল ছবি

সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপি নেতা ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, নাহিদ ইসলাম নিজে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন—এটি ধরে নিলেও দায়িত্ব পালনের সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান লিখেছেন, দায়িত্বে থাকাকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক ব্যক্তি ও ঘনিষ্ঠরা দুর্নীতি এবং তদবির বাণিজ্যে জড়িয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামের সাবেক পিএস আতিক মোর্শেদের কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন জায়গায় নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের রদবদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তার ভাষায়, পরবর্তীতে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাহিদ ইসলামের নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার কথাও নাহিদ নিজেই বলেছিলেন।

রাশেদ খানের অভিযোগ, যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামও যুক্ত ছিলেন। তাই তিনি এসবের দায় এড়াতে পারেন কি না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এনসিপির অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, নাহিদ ইসলাম নিজেই বলেছিলেন বিভিন্ন ধনী ব্যক্তি দলটিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। কিন্তু সেই অর্থদাতারা কারা এবং কেন তারা সহায়তা দিচ্ছেন—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শেখ বশির উদ্দিনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তার দাবি, এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না যে তাকে বাণিজ্য উপদেষ্টা করা প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এনসিপি গঠনে যুক্ত ছিলেন, যা তার ভাষায় নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

নাহিদ ইসলামের অধীনে থাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, ১৬ বছরের দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং দায়িত্ব ছাড়ার পর যাকে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি পরবর্তীতে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলকে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের আইনে লাইসেন্স দেন বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার নিয়ে সরকারে যুক্ত হলেও সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ না করেই পদত্যাগ করেছেন। তার মতে, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না থাকলেও নৈতিক দায়িত্বের জায়গা থেকে নাহিদ ইসলাম প্রশ্নের বাইরে নন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD