জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। অন্যদিকে, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি হোটেলে জোটের পক্ষ থেকে জুনায়েদ আল হাবিবের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়। জমিয়তের এই নেতা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয়, যা জোটের মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য সৃষ্টি করেছে।
এদিকে রুমিন ফারহানা গত শুক্রবার সরাইলের এক সমাবেশে জানিয়ে দেন, আমার এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, নির্বাচন করব আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার সহযোগীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনসমর্থনকে ভিত্তি করে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বিজ্ঞাপন
এই মনোনয়ন পরিস্থিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জটিল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে। একদিকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জুনায়েদ আল হাবিব, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন রুমিন ফারহানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ ও জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাসসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপির জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘ঘাঁটি’। আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাতবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়বার জয়ী হয়েছেন, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নয়বার অংশ নিয়ে তিনবার এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পাঁচবার অংশ নিয়ে একবার জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইবার বিজয়ী হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জোটের প্রার্থীর মনোনয়ন মূলত ধর্মীয় ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে। তবে রুমিন ফারহানা স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ও সংগঠিত থাকায়, আসনে সম্ভাব্য তিনমুখী লড়াই হতে পারে। এই লড়াই মূলত রুমিন ফারহানা, জুনায়েদ আল হাবিব ও মোবারক হোসাইন আকন্দের মধ্যে হবে।
সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব। দলের বাইরে কেউ যাব না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোট দিতে পারিনি। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বিজ্ঞাপন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে সরাইলের ৯ ইউনিয়নে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৯ জন, আশুগঞ্জের ৮ ইউনিয়নে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯ জন এবং বিজয়নগরের ২ ইউনিয়নে ৫৭ হাজার ৭৪০ জন ভোটার রয়েছেন।








