সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান

সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান —এমন অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দেশে চলমান সহিংস রাজনীতির দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানাতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণের এখনও সময় আছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ। অথচ খালেদা জিয়াকে এক সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হলেও তখন কোনো নেতা এগিয়ে আসেননি। যারা তাকে মুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছিল, আজ তাদের বিরুদ্ধেই সহিংসতা চালানো হচ্ছে—এটি চরম অকৃতজ্ঞতার শামিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আজকের এই সমাবেশ শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। এখানে উপস্থিত আছেন শেরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনায় নিহত জামায়াত নেতা, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনায় নিহতরা এবং ২৮ অক্টোবরের সহিংসতায় প্রাণ হারানো শহিদরা। অতীতে যারা লাশের ওপর রাজনীতি করেছে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে কী হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আমরা দেশেই আছি, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।
ধৈর্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত এখনো সহনশীলতা বজায় রেখেছে। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। দেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সহিংসতার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সহিংসতার রাজনীতিতে বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব দেবে। যেভাবে এক সময় একটি দলকে বিদায় নিতে হয়েছিল, একইভাবে সন্ত্রাসের রাজনীতিরও অবসান ঘটবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রার্থী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেরপুর-৩ আসনের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, নির্বাচনী আইনে এ ধরনের সহিংসতার জন্য দায়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা হতাশাজনক। এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে আইন লঙ্ঘন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন বা জনকল্যাণের রাজনীতি নয়, বরং খুন ও সন্ত্রাসকেই তারা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি শেরপুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।








