Logo

ইসলামি আদর্শে পুরুষের নেতৃত্ব, জামায়াতে নারীরা আমির হবেন না

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৮:২৩
ইসলামি আদর্শে পুরুষের নেতৃত্ব, জামায়াতে নারীরা আমির হবেন না
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কাঠামোতে নারীদের জন্য আমির পদ প্রযোজ্য নয়—এমন স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা। তিনি বলেছেন, জামায়াত একটি ইসলামি আদর্শভিত্তিক দল, যেখানে পুরুষই নারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ও পরিচালকের ভূমিকা পালন করে—এই নীতিকে মেনে নিয়েই নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জামায়াতের মহিলা শাখার চারজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন।

ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, নারী কর্মীদের নিরাপত্তা, প্রচারণাকালে বাধা এবং সাইবার হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, নারী শাখার সদস্য মারজিয়া বেগম এবং মহিলা বিভাগের সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান।

বিজ্ঞাপন

নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, কেবল নারী শীর্ষ পদে থাকলেই নারীর প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয়—এই ধারণার সঙ্গে জামায়াত একমত নয়। অতীতে দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলামী নারীর মর্যাদা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে এবং সে অনুযায়ী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলছে।

এ সময় ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত নারী প্রার্থী দিয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বাস্তব প্রমাণ। ভবিষ্যতে নারীরা দলটির আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবে এবং সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে তাদের নারী কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি, হামলা ও বাধার মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন তারা। এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তারা একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বলেন, একই সময়ে একাধিক নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতের নারী নেত্রীরা আরও বলেন, এটি প্রথমবার যে তারা সংগঠনের মহিলা উইং থেকে নির্বাচন কমিশনে এসে সরাসরি তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা উপেক্ষা করে ঘরে বসে থাকা সম্ভব হয়নি বলেই তারা কমিশনের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নিরাপদ ও অবাধ পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার নারীদেরও রয়েছে। জামায়াত তাদের নারী সদস্যদের সংগঠনের ভেতরে সম্মান, অধিকার ও নেতৃত্বের সুযোগ দিচ্ছে বলেই কিছু মহল তা মেনে নিতে পারছে না এবং প্রতিহিংসা থেকে হামলা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শেষে তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কোনো চাপ বা বাধা দিয়ে নারী কর্মীদের থামিয়ে রাখা যাবে না। যেখানে প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেখানেই তারা প্রতিবাদ করবেন। সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD