বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার যেভাবে মূল্যায়ন করল ভারতীয় মিডিয়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহার প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিষয়টি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি ও পররাষ্ট্রনীতির দিকগুলো বিশ্লেষণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি তাদের ইশতেহারে ভারতকে ঘিরে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে পররাষ্ট্রনীতির মূল আলোচনায় এনেছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, ভারত থেকে পুশ-ইন এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানি বণ্টনের মতো বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ‘সমতা ও আত্মমর্যাদা’র ভিত্তিতে। দলটির স্লোগান হিসেবে ‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি।
বিজ্ঞাপন
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং একইভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবে না।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছে। সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন এবং চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারে।
নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে বিএনপি তিস্তা ও পদ্মার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে দলটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর ওপর নতুন করে চাপ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনাকে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সমর্থন দেওয়া এবং যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এই কমিশনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে বিএনপির ইশতেহারের ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে চায়। তারা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, তবে একই সঙ্গে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার পথও খোলা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, ইশতেহারে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেছে বিএনপি। এনডিটিভির মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
সূত্র: এনডিটিভি








