আমরা নিচ্ছি ব্যালটের প্রস্তুতি, একটি দল নিচ্ছে বুলেটের প্রস্তুতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমরা একটা লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছি। একদিকে ১২ তারিখ আমরা নিচ্ছি ব্যালটের প্রস্তুতি, অন্যদিকে একটি দল নিচ্ছে বুলেটের প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতিতে বুলেটের বিপ্লবকে ব্যালটের বিপ্লব দিয়েই প্রতিহত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে ফুলতলা উপজেলার নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পথ সহজ ছিল না। একটি নির্বাচনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যারা গ্রেপ্তার এড়াতে পেরেছেন, তাদের জন্য পুরো দেশই এক সময় উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ নির্বাচন আসছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়েছে এবং ডামি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম উপর মহলের নির্দেশেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। কোনো পুলিশ সদস্য যেন অবৈধ অর্থের প্রলোভনে না পড়েন—সন্তান, পরিবার ও দেশের মানুষের কথা মনে রেখে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান তিনি।
একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, আবার যদি ব্যালট বাক্স ভরার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনরোষ সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
বিজ্ঞাপন
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রশাসনকে জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। পাশাপাশি তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও তদবিরবিহীন বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অনেক সাংবাদিক সত্য প্রকাশ করতে চাইলেও মালিকানার চাপের কারণে তা পারেন না। একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন চ্যানেল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে মিডিয়াকে স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। জনগণ জেগে উঠলে জনগণই হয়ে ওঠে প্রকৃত গণমাধ্যম।
বিজ্ঞাপন
মিডিয়া মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট দলের প্রচারণায় যুক্ত হলে সেই প্রতিষ্ঠান আর গণমাধ্যম থাকে না, দালালে পরিণত হয়। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি দল কালো টাকা ও অর্থের বস্তা নিয়ে ভোটে নামছে।
ভোটারদের প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, একদিনের টাকার বিনিময়ে পাঁচ বছর গোলামি করবেন, নাকি বিনা মূল্যে ভোট দিয়ে পাঁচ বছর সেবা নেবেন—এই সিদ্ধান্ত ভোটারদেরই নিতে হবে। ভোট বিক্রি করলে তার ফল ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ভোটকে পবিত্র আমানত উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই অধিকার অর্জনে অগণিত মানুষ জীবন দিয়েছেন। শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ভোট কেনাবেচা না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্র শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার সমস্যা। যারা আড়ালে থেকে সেই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের ভূমিকা ইতিহাসে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ফুলতলা-ডুমুরিয়া আসনের প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রার্থী দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এবং এমপি থাকা অবস্থায় ব্যয় করা প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও চাঁদাবাজির রাজনীতিতে দলের ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যারা জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। ফুলতলা উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।








