জিয়াউর রহমানের মতো একই ভুলের পথে হাঁটছেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো একই ভুলের পথে হাঁটছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তারেক রহমানের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের বক্তব্যে বলা হয়েছে—জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জনগণ যদি সত্যিই শেখ হাসিনা কিংবা তার পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে ফেরাতে চাইত, তাহলে কি একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতন ঘটত? তাহলে কি ১ হাজার ৪০০ মানুষের জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হতো?
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, জনগণ যেমন ১৯৭৫ সালে বাকশাল মেনে নেয়নি, তেমনি বর্তমান সময়েও তারা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি চায় না। সেই সময়ও একটি সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাকশালের পতন হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটকালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় ভুল ছিল—বাকশালের প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরিকে পুনরায় রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সিদ্ধান্তের ফলেই পরবর্তী সময়ে দেশকে দীর্ঘ সময় ধরে গুম, হত্যা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই ভুলের খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, জিয়াউর রহমানের পরিবারকেও দিতে হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ক্ষমতার লোভে অতীতের ভয়াবহ পরিণতি ভুলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা জনগণের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আবারও একটি ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত দলকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা জনগণ মেনে নেবে না। এমন চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অস্ত্র মজুত করছে বলে বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়াও দেখা গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনকালীন সময়ে এসব অস্ত্র ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর ভূমিকার আহ্বান জানান। তার মতে, অস্ত্রের মজুত অব্যাহত থাকলে অনেক এলাকায় নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের সভা ও উঠান বৈঠকে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অথচ এসব গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং ছোটখাটো বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বেশি শোকজ ও জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এতে নির্বাচন পরিচালনায় স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।








