ব্যবসায়ী কুলাঙ্গাররা চায় না তরুণরা জিতুক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘প্রিয় মা-বোনেরা, আমরা দেখছি গত একমাস ধরে একটি দল আপনাদের হিজাব, বোরখা, ছায়া টেনে খুলে ফেলতে চায়। আজকে যারা আমার মা-বোনদের বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।’
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের জনসভায় এ কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়।
এদিন প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবার যদি তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, আপনারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না। আপনারা মা-বাবার দোয়া নিয়ে, সন্তান স্ত্রীর থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন, এটা হবে আপনাদের আখেরি দিন। আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো।’
বিজ্ঞাপন

হাসনাত আরও বলেন, ‘একটা পক্ষ তরুণ প্রজন্মকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, ব্যবসায়ী কুলাঙ্গাররা চায় না তরুণরা জিতুক। মিডিয়া মাফিয়ারা চায়না এই তরুণ প্রজন্ম জিতুক। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতিবিধরা চায়না এই তরুণরা জিতুক। চান্দাবাজ-টেন্ডারবাজরা চায়না এই তরুণরা জিতুক। আপনারা (অডিয়েন্স) প্রত্যেকে দায়িত্ব নিয়ে এই লড়াইকে জেতাতে হবে।’
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্বপালনের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রশাসনের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। দিনের ভোট রাতে করেছেন, মরা মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দিয়েছেন, আমি-ডামি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। এসপি-ডিসিরা সাক্ষী থেকে, ওসি-কনস্টেবলরা সাক্ষী থেকে এসব জনগণবিরোধী কার্যক্রম আপনারা করেছেন। আপনাদের প্রতি জনগণের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেই অনাস্থা দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আগামী নির্বাচনে জনতার কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করেন। জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক এসে আমাদেরকে তাঁদের দুঃখের কথা জানান। যে খবরটা তাঁরা প্রচার করতে চান, তাঁদের দালাল মালিক মিডিয়া তাঁদেরকে প্রচার করতে দেন না। ৫ আগস্টের পরে আমরা যখন সরকার গঠন করেছি, আমরা যখন মন্দির–মসজিদগুলোকে পাহারা দিয়েছি, অমুসলিম ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, ঠিক সেই সময়টিতে একটি দল টেলিভিশনগুলোকে দখল করেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করেছে, মিডিয়াগুলো দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে।’
বিজ্ঞাপন
রবিবার শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজসহ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
এদিন প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাত ধরে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
বিজ্ঞাপন








