Logo

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫:৪৭
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান | ফাইল ছবি

প্রায় দুই দশক নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। টানা প্রায় দেড় দশক ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকার নিয়ে যে প্রশ্নগুলো ছিল, সেগুলোর অবসান ঘটাতে এবারের নির্বাচনকে এক ধরনের মোড় পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বহুল আলোচিত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। জনমত জরিপগুলো যদি সঠিক প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে এই নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে।

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবাস থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ঢাকায় তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায় এবং তাকে ঘিরে গণসংযোগ কার্যক্রম দ্রুতই জোরদার হয়।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফর করেছেন। একই সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন।

তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিপরীতে তারেক রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার কথা বলেছেন। তিনি কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিস্তারের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের অঙ্গীকার করেছেন।

নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো খাত উন্নয়নের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই দফা বা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ঢাকায় অবতরণের পর সময় কীভাবে কেটে গেছে, তা উপলব্ধি করার সুযোগই পাননি। তার মেয়ে জাইমা রহমানও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে জনসমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখছেন।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম নেওয়া তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পরে ব্যবসায় যুক্ত হন। দেশে ফেরার পর তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও সংযত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।

তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলা ও অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি ও সহিংসতার মামলায় অনুপস্থিতিতেই তার দণ্ড হয়েছিল। ২০০৪ সালে এক রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর এসব মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাসনে থাকার সময় তিনি তার দলের ওপর নানা দমন-পীড়নের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের কারাবরণ, কর্মীদের নিখোঁজ হওয়া এবং কার্যালয় বন্ধের ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক পথচলাকে প্রভাবিত করেছে।

দেশে ফিরে এসে তারেক রহমান আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ভাষায় কথা বলছেন। তিনি প্রতিশোধমূলক রাজনীতি পরিহার করে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় পুনর্মিলনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ‘রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথাও তিনি বারবার উল্লেখ করছেন।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানের অবস্থান এখন অত্যন্ত শক্ত। প্রার্থী নির্বাচন, রাজনৈতিক কৌশল ও জোট গঠনের বিষয়গুলো তিনি সরাসরি তদারকি করছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও তা টেকসই করা। তার মতে, গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং সেই পথেই দেশকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD