নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় পর মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, তিনি ঢাকা শহরের কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। গত রাতেও কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা হয়েছিল এবং আজও সেই ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।
তিনি বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন সেই অধিকার ফিরে পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: সারা দেশ থেকে ভালো খবর পাচ্ছি: ডা. তাহের
সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়া যায়।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তারা আত্মবিশ্বাসী এবং বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
বিজ্ঞাপন
তবে কতটি আসনে জয় প্রত্যাশা করছেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পেলেই বিএনপি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে পারবে।
নির্বাচনে জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করা হয়েছে, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার আগ্রহ রয়েছে বিএনপির।
সারাদেশের ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে থাকায় বিস্তারিত তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে গণমাধ্যমে চোখ রেখে তিনি দেখেছেন, বিভিন্ন জায়গায় কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণ যত বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, তত বেশি সব ধরনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটের ফল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখেন না। জনগণ যেহেতু ভোট দিয়েছে, তারা দ্রুতই ফল জানতে চাইবে এবং নির্বাচন কমিশনও সেই প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নেবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, অতীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশবাসী দেখেছে। এবারের নির্বাচনও যদি সেভাবেই সম্পন্ন হয়, তাহলে ফলাফল মেনে নিতে কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে এর শর্ত একটাই—নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত।
ভোটের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরে তিনি যে চিত্র দেখেছেন, তাতে মনে হয়েছে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য আশাব্যঞ্জক।








