ইতিহাসে নতুন অধ্যায় : প্রাণহানি ছাড়াই শেষ হলো নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে সারাদেশে ভোট গণনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যেই ব্যালট বাক্স গণনাকেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে রঙভেদে ব্যালট আলাদা করা হচ্ছে—সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা-কালো এবং গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের—এরপর পৃথকভাবে গণনা করা হবে।
এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নির্বাচন ঘিরে কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে টানা নয় ঘণ্টা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিছু কেন্দ্রে ছোটখাটো সহিংসতার খবর এলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভোটের হার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী ভোটের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে এসব তথ্য তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বিজ্ঞাপন
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশের কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কোনো কেন্দ্রেই ভোট বাতিল বা বন্ধ করার প্রয়োজন পড়েনি, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাণহানিবিহীন এই নির্বাচন ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।








