নির্বাচনে শুরু ভালো হলেও শেষটা প্রশ্নবিদ্ধ: ১১ দলীয় ঐক্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শুরু হলেও এর সমাপ্তি গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় পর্যায়েই নানা অনিয়ম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতা দৃশ্যমান না হলেও ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় অস্বস্তিকর ও ভীতিকর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণের সূচনা ইতিবাচক হলেও শেষ পর্যন্ত তা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়নি।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাপক জালভোট, কালো টাকার ব্যবহার এবং নানা অনিয়ম নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও দলীয় কর্মীরা প্রকাশ্যেই ব্যালটে সিল দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে, যার ফলে অনেক কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। এসব বিষয়ে বারবার কমিশনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ভোট গণনার সময়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পোলিং এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আবার যারা ছিলেন তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু গণনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে। অনেক কেন্দ্রে ফলাফল শিটে ঘষামাজা ও ওভাররাইটিংয়ের মতো ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব বিষয় তুলে ধরে ৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
গেজেট প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২ তারিখ, আর ১৩ তারিখ রাতেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক প্রার্থী ও সমর্থক সময়মতো অভিযোগ দায়েরের সুযোগ পাননি। একদিন সময় বাড়ানো হলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দেশে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং সংসদকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে—এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারা। তবে এবারের নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ১১ দলীয় জোট একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে যাবে।
এর আগে একইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও ফলাফল শিটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনঃগণনার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।








