ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্কতিলক: চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেটিকে “জাতির কপালে কলঙ্কতিলক” আখ্যা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি দাবি করেন, বিপুল ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে অনিয়মমুক্ত নির্বাচনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচন তা পূরণ করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রামপুরায় জামিয়া কারিমিয়া মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রেজাউল করীম বলেন, টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংকটের ধারাবাহিকতায় যে গণ-আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত রূপ ছিল চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান। সেই আন্দোলনে বহু ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়। তার ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা ছিল শুধু শাসক পরিবর্তন নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ‘ইলেকশন মেকানিজম’ বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। চরমোনাই পীর বলেন, তাদের দলের বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে—অনেক ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের ভোটাধিকার অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত হোক। যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থেকে যায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, সব অভিযোগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে তদন্ত করতে হবে। যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দলের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় নেতারা সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
রেজাউল করীমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে। তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।








