Logo

দেশের প্রগতিশীল নেতা যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মার্চ, ২০২৬, ১৯:২৮
দেশের প্রগতিশীল নেতা যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল
মশিউর রহমান যাদু মিয়া | ফাইল ছবি

দেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান ও জাতীয়তাবাদী নেতারূপে খ্যাত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার পালিত হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক উল্লেখযোগ্য নেতা ও এক সময়ের মজলুম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর, পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভার সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন যাদু মিয়া।

বিজ্ঞাপন

১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন রংপুর জেলার (বর্তমানে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী) সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যাদু মিয়া। তার পিতা ওসমান গনি এবং মাতা আবিউননেছা। তিনি ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ ইন্তেকাল করেন।

যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ৪০-এর শেষের দিকে, যখন তিনি ইয়ং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের (ইয়াং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন) পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রধান হন। ৫০-এর দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৬০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল অ্যাওয়ারনেস পার্টি (ন্যাপ)-এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আইয়ুব খানের বিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে জাতীয় পরিষদে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের লায়েলপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে ‘গাদ্দার’ বলে সমালোচনা করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট এবং পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মওলানা ভাসানীর ইন্তেকালের পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদার সমতুল্য সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ন্যাপের চেয়ারম্যান হিসেবে দলের প্রতীক ‘ধাণের শীষ’ বিএনপিকে প্রদান করেন।

মরহুম যাদু মিয়ার স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাপ নীলফামারী (ডোমার-ডিমলা), রংপুর, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেছে।

বিজ্ঞাপন

মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা এক বাণীতে বলেন, দেশ-জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যাদু মিয়া যে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তা আজকের প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক। জাতীয়তাবাদী ও ঐক্যের রাজনীতিতে মওলানা ভাসানীর দক্ষিণ হস্ত হিসেবে যাদু মিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে বাদ দিয়ে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। তিনি মেধাবী ও দূরদর্শী রাজনীতিক ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণমানুষের মুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান সময়ে দেশের স্বার্থে বিভাজন নয়, ঐক্যের রাজনীতি প্রয়োজন। মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান ও যাদু মিয়াদের পথ অনুসরণ করে দেশের পতাকা ও মানচিত্র রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এভাবেই বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD