অকারণে বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝেও সমর্থন নয়: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—সেই লক্ষ্যেই বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ করতে চায় তার দল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিষয়ে অকারণে বিরোধিতা করা হবে না, আবার যথাযথভাবে না বুঝে সরকারকে সমর্থনও দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এক বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই সংসদকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। বিরোধী দল হিসেবে তারা এমন অবস্থান নেবেন, যাতে দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার পায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে সরকার যদি কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তা সমর্থন ও সহযোগিতা করা হবে। তবে জনগণের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এলে প্রথমে তা নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিবাদের পথেও হাঁটা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, বিরোধী দলের ভূমিকা হবে গঠনমূলক। প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে। তাতেও কাজ না হলে প্রতিবাদ জানানো হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কথা নয় এবং আলোচনা ও যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন হঠাৎ করে আসেনি। ২০২৪ সালের আন্দোলন, দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রাণদানের মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে একটি সংস্কারভিত্তিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিজ্ঞাপন
ডা. শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে সরকারি দলের সদস্যরা এখনো সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বলে উল্লেখ করে তিনি তাদের দ্রুত সেই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করল বিএনপি
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। গণভোটে যে চারটি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের পক্ষে বিরোধী দল কাজ করবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেবে।
বিজ্ঞাপন
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিল এবং এর আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রবাসীদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। সরকারের ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে, তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ এলে তার বিরোধিতা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।








