দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জোনায়েদ সাকি

সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দল ও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব নিশ্চিত করতে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আজ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আলাদা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এ সময় সাম্প্রতিক আলোচনায় থাকা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সাকি উল্লেখ করেন, এই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে নানা মত ও আলোচনা চলছে। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তির ঐকমত্যই শেষ পর্যন্ত মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন জোনায়েদ সাকি। ওই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। গণসংহতি আন্দোলনের প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনমুখী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারে তাকে প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তাকে কেবল পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল রাখা হয়।








