Logo

কারা রাজাকার ছিল, উল্লেখ করে মনে কষ্ট দিতে চাই না: ফারুক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২:২০
কারা রাজাকার ছিল, উল্লেখ করে মনে কষ্ট দিতে চাই না: ফারুক
ছবি: সংগৃহীত

অতীতের সংবেদনশীল বিষয়গুলো টেনে কারও মনে কষ্ট দিতে চাই না সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন কারা রাজাকার ছিল বা কারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল—এসব প্রসঙ্গ তুলে কারও মনে কষ্ট দিতে চাই না।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তিনি একে “মাথার মণি” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরও আত্মত্যাগ রয়েছে—যা উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সংসদ নেতা ও সরকারের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে কাজ করার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চান, তাদের প্রতি তিনি সংযত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক দল একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শন থেকে গড়ে উঠেছে। এই দলের নেতারা অতীতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকেও দলের প্রতি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফারুক বলেন, তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় দলটিকে ভিন্নভাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কখনো একে আদর্শহীন বলা হয়েছে, আবার কখনো রাজাকার বা বিদেশপন্থী শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তার মতে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বাস্তবতা জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। এতে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে ভোট ছাড়াই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মতো বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শেষাংশে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, অতীতের সংবেদনশীল বিষয়গুলো সামনে এনে বিভাজন তৈরির চেয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনাকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাদের সম্মান দিতে হবে, পাশাপাশি অন্যদের অবদানও খাটো করে দেখা যাবে না। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD