গ্রেপ্তার নারী কর্মীর মুক্তির দাবি, সংসদে আল্টিমেটাম জামায়াতের

ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি অবিলম্বে ওই নারীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের প্রতি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া আসনের এই এমপি বলেন, সাওদা সুমি নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বলা হচ্ছে, ‘ওপরের নির্দেশে’ তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ‘ওপরের নির্দেশ’ আসলে কার নির্দেশ—এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, আজকের অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই বিবি সাওদাকে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বর্তমান সরকারকে গণতান্ত্রিক দাবি করে তিনি প্রশ্ন রাখেন—এ অবস্থায় জনগণ কি তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে না?
এ বিষয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইতোমধ্যে তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সমস্যার সমাধানে চেষ্টা চলছে। তবে সংসদের ভেতরে এভাবে আল্টিমেটাম দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করা যেতে পারে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সরকারবিরোধী নানা মন্তব্য করা হচ্ছে—সবকিছু বিবেচনায় নিলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন স্পিকার।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জ্বালানি তেল সংকট সংক্রান্ত একটি পোস্ট ও ফটোকার্ড শেয়ার করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ওই নারীর তিন বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই গ্রেপ্তারকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।








