একক নাকি জোট : স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দ্বিধায় এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে দলটি এককভাবে অংশ নেবে, নাকি জোটগতভাবে লড়বে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে দলটির ভেতরে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দেখছে এনসিপি। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, শুরু হয়েছে প্রাথমিক প্রস্তুতিও।
দল গঠনের মাত্র এক বছরের মাথায় জোটগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টিতে জয় পায় এনসিপি। স্বল্প প্রস্তুতি নিয়েও এমন ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। এ কারণে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ লক্ষ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে সারজিস আলমকে চেয়ারম্যান এবং আব্দুল হান্নান মাসউদকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটি গঠনের পর দলটি দ্রুত প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরুর ঘোষণা দেয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে এনসিপি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন সিটিতে দলীয় নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদেও যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
তবে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটির শীর্ষ নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রথমে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে জোটে যোগ দেয় এনসিপি।
বিজ্ঞাপন
দলীয় নেতাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি সম্ভাব্য কৌশল বিবেচনায় রয়েছে। এর একটি হলো—সব পর্যায়ের নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করা। অন্যটি হলো—সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করা।
এদিকে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতেও দ্রুত কমিটি ঘোষণা করার কাজ চলছে। এসব কমিটি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
দলটির নেতারা বলছেন, কেবল নির্বাচন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, সৎ ও জনসেবামুখী নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে সংগঠন বিস্তার, অন্যদিকে কার্যকর নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। শেষ পর্যন্ত দলটি এককভাবে লড়বে, নাকি জোটের ওপর ভর করবে—সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।








