Logo

গুণীজনদের সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: দুদু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:০৩
গুণীজনদের সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: দুদু
ছবি: সংগৃহীত

সমাজের গুণী ও সৃজনশীল মানুষদের যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরা এবং তাঁদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। লেখক, গবেষক সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক মাহমুদ হাসানের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়।

দুদু বলেন, মাহমুদ হাসান ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। রাজনীতি, সাহিত্য, কবিতা, সাংবাদিকতা ও গবেষণায় তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম অনুসরণ করলে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, মাহমুদ হাসান একসময় রাঙামাটি জেলা কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর সম্পর্কে বলতে গেলে আবেগ ও তৃপ্তি—দুই অনুভূতিই কাজ করে বলে উল্লেখ করেন দুদু।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের বিরুদ্ধে মাহমুদ হাসান শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বরং লেখালেখির মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যকর্মে তিনি স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার ও কারাবরণও করতে হয়েছে।

মাহমুদ হাসানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন দুদু। তিনি বলেন, নিজের কষ্ট ও অনুভূতি তিনি খুব কম মানুষের সঙ্গে ভাগ করতেন। বরং তাঁর লেখালেখির মাধ্যমেই তিনি নিজের ভাবনা, যন্ত্রণা ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।

বিজ্ঞাপন

দুদু স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাহমুদ হাসান ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত একজন মানুষ, যিনি যেকোনো আড্ডা বা সভা প্রাণবন্ত করে তুলতে পারতেন। তাঁর সঙ্গে যারা চলাফেরা করেছেন, তারা কখনো নিরাশ হননি।

কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় দায়িত্ব পেয়ে মাহমুদ হাসান তা দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা তাঁর ছিল।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর অনেক সময় মানুষকে ভুলে যাওয়া হয়। তবে এমন স্মরণসভা প্রয়াত ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। কেউ বক্তব্যের মাধ্যমে, কেউ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে—বিভিন্ন উপায়ে একজন মানুষকে স্মরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রজীবন থেকেই মাহমুদ হাসানকে কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে দুদু বলেন, তাঁকে অল্প কথায় মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। রাজনীতির নানা প্রতিকূল সময়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাহমুদ হাসানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত ছিল এবং তাঁর প্রস্থান সবার জন্য বেদনাদায়ক। তবে এটিই হয়তো সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

দুদু আরও বলেন, মাহমুদ হাসান একাধিক ভাষায় ও বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন। তিনি শুধু কবি নন; সাংবাদিকতা, গবেষণা এবং রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মাহমুদ হাসানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে দুদু বলেন, এই দাবি যৌক্তিক এবং তাঁর প্রাপ্য। যদিও তিনি কখনো স্বীকৃতির জন্য কাজ করেননি, তবুও তাঁর অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

তিনি বলেন, গুণীজনদের সামনে আনা এবং তাঁদের সম্মানিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এতে সমাজে আরও প্রতিভাবান মানুষ গড়ে উঠতে উৎসাহ পাবে। মাহমুদ হাসানের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে তিনি নিজেও ভূমিকা রাখবেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

শোকসভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD