Logo

মুক্তিযোদ্ধা’র বিরোধী শক্তির তালিকা থেকে জামায়াতের নাম বাদের দাবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৩৩
মুক্তিযোদ্ধা’র বিরোধী শক্তির তালিকা থেকে জামায়াতের নাম বাদের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা চলাকালে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। এ দাবি জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বিদ্যমান সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

বর্তমান আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী—রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন—এমন সব বেসামরিক নাগরিক, যাদের বয়স ওই সময়ে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে ছিল; তারা 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বিজ্ঞাপন

এই সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের নাম স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।

তিনি আরও বলেন, কী আছে এখানে? তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে—তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি। পাক সেনাবাহিনীর সাথে আরও কিছু অক্সিলারি ফোর্সের সাথে তিনটা রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে এবং বর্তমান উপস্থাপনায় বা প্রস্তাবনায় তৎকালীন এই তিন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর অধিবেশনের সভাপতিত্বকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল নিয়ে এনসিপি লিখিতভাবে তাদের মতামত দিয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD