বক্তব্য শুনলে মনে হয় যেন দেশ তেলের ওপর ভাসছে: জামায়াত আমির

দেশে জ্বালানি সংকট ও সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই। বাস্তবে দেশে জ্বালানির ঘাটতি থাকলেও সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় যেন দেশ তেলের ওপর ভাসছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, সংসদ থেকে এখন পর্যন্ত জাতির জন্য প্রত্যাশিত ইতিবাচক ফল আসেনি। জনগণের করের অর্থের যথাযথ হিসাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে ‘গোঁজামিল’ ও কৃত্রিম সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত নগদ অর্থ না থাকলেও কাগজে-কলমে মুনাফা দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিভিন্ন সংগঠনে জোরপূর্বক নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা একটি খারাপ সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, এই খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে বিদেশি ঋণ বা সহায়তা দিয়েও তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হলে খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে মজুত থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে জ্বালানির সংকট দেখা যাচ্ছে। এই বৈপরীত্য দূর করতে স্বচ্ছতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
সমাধান হিসেবে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা (ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট) নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানির মজুত গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি একই ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও জোরপূর্বক নীতি অব্যাহত থাকে, তবে তা প্রতিরোধে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যয় হয়। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বোরো মৌসুমে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।








