সংরক্ষিত নারী আসনে অগ্রাধিকার পাবেন কারা, জানালেন রিজভী

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য নির্বাচনের মতোই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এবং দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নারীরাই প্রাধান্য পাবেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় পাঁচ শতাধিক মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যা রবিবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে অনেক আবেদন জমাও পড়েছে।
রিজভী বলেন, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হবে। পরে দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। খুব শিগগিরই পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেভাবে সাধারণ আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে, একই ধরণের স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীও নির্ধারণ করা হবে। এতে যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দলকে দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সুযোগকে মূল্যায়ন করে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি জোরদার করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ দেখতে চায় সংসদ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে কিনা। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সংরক্ষিত নারী আসনে আগ্রহী নারীদের ব্যাপক সাড়া প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দলের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতপ্রকাশের কারণে অনেককে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এসব ত্যাগ ও অবদান বিবেচনায় নিয়েই দল প্রার্থী নির্বাচন করবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যেসব নারী রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সংসদে কথা বলার সক্ষমতা রাখেন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে—তারাই শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন পাবেন।








