Logo

জামায়াত-এনসিপি জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আছেন যারা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৩৮
জামায়াত-এনসিপি জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আছেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিভিন্ন জোট ও দলের ভেতরে-বাইরে চলছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে জামায়াত-এনসিপি জোটে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই, ২৬ এপ্রিল থেকে আপিল গ্রহণ এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রেখে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবশেষে ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে বিরোধী দলে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে দুই জোটের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা মোট ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। এই জোটে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের সহযোগী দলগুলো— জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস পাবে মোট ১৩টি আসন।

জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দলের মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ এবং আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

আসন বণ্টন অনুযায়ী জামায়াত পাবে ১২টি এবং এনসিপি পাবে একটি আসন। তবে এনসিপি অতিরিক্ত আরও একটি আসন দাবি করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল। দলটি তাদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরেও তৎপরতা কম নয়। দলটি ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রি সম্পন্ন করেছে।

এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্বাচনে আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৌশল নির্ধারণ, প্রার্থী বাছাই এবং জোটগত সমঝোতা নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা, যা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD