Logo

রাজপথে নামছে ১১-দলীয় ঐক্যজোট, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ!

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৫০
রাজপথে নামছে ১১-দলীয় ঐক্যজোট, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ!
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। সংসদের ভেতরে দাবিদাওয়া উত্থাপন, মুলতবি প্রস্তাব ও ওয়াকআউটের পর এবার মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন জোরদার করতে চায় তারা। জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সংসদে বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে, ফলে জনমতকে সামনে রেখে রাজপথে চাপ তৈরি করাই এখন কৌশল।

গত ৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরোধী দল সংসদের পাশাপাশি জনগণের কাছেও যাচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৪ এপ্রিলের কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল থেকে সাত দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে জোটটি, যার মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, সেমিনার এবং বিক্ষোভ।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করার সুপারিশকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথেই এগোচ্ছে জোটটি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অতীতের দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানেও সংসদ ও রাজপথ—দুই ক্ষেত্রেই গঠনমূলক বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিও এতে যুক্ত হতে পারে। তবে সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের কর্মসূচির গতি ও ধরন নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, গঠনমূলক আন্দোলন গণতন্ত্রের অংশ, তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিরোধী দলের আন্দোলন সাধারণত ক্ষমতাসীনদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, ফলে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও সতর্ক ভূমিকা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আন্দোলনের অধিকার থাকলেও সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে সমাধানের চেষ্টা আগে করা উচিত। তার মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন করে আন্দোলন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা অন্য কোনো শক্তির সুযোগ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন অনেক সময় সংঘাত ও জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যেকোনো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবারই আছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি হলে পুলিশ নিরাপত্তা দেবে, তবে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সামগ্রিকভাবে, একদিকে বিরোধী জোটের রাজপথমুখী কর্মসূচি, অন্যদিকে সরকারের অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি। বিশ্লেষকদের মতে, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD