সংবিধান সংস্কার পরিষদে যে কারণে শপথ নেননি রুমিন ফারহানা

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ার পর পুনরায় একই কাঠামোর মধ্যে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করা আইনগতভাবে অসঙ্গত ও অযৌক্তিক।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি এক টক শো’তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতেই দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদি শুরুতেই এটিকে বাতিল ঘোষণা করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হতো, তাহলে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার জন্য একটি আইনগত কাঠামো তৈরি হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলেই তিনি দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়াকে সমর্থন করেন না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রথম শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই তিনি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব শুরু করেছেন। সেই অবস্থায় একই সংবিধানের আওতায় আবার শপথ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং এমন পদক্ষেপ নিলে প্রথম শপথের বৈধতা ও গুরুত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা ধরনের বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি যারা এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ পরবর্তীতে পদত্যাগ করেছেন—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি মনে করেন, এসব প্রেক্ষাপটে কেবল একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটিই আইনি বিতর্কের আওতায় আসতে পারে। ভবিষ্যতে যে কেউ চাইলে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন এবং আইনি চ্যালেঞ্জও জানাতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, আইনশাস্ত্রে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার অংশ হিসেবে মেনে নিতে হয়। কারণ সময় পেরিয়ে গেলে অতীতে ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বহু বছর পর কোনো সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হলেও সেই সময়কে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।
সবশেষে তিনি বলেন, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় অনেক বিষয়কেই মেনে নিতে হয়। তবুও সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।








