সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘোষণা ঘিরে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, তখন ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরলেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ডা. তাসনিম জারা। তিনি জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও নীতিগত কারণে তা গ্রহণ করেননি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। তবে কোন রাজনৈতিক দল থেকে এই প্রস্তাব এসেছিল, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণার পর অনেকেই তার সংসদে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে সহানুভূতি জানিয়েছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, সংসদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার সুযোগ ছেড়ে দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে এর আগে তিনি ঐকমত্য কমিশনে স্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন যে, সংরক্ষিত নারী আসন দলীয় মনোনয়নের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি জনগণের ভোটে পূরণ হওয়া উচিত। এই দাবির পক্ষে তিনি প্রচার চালিয়েছেন এবং জনসমর্থনও সংগ্রহ করেছেন। ফলে এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর ভিন্ন অবস্থান নেওয়াকে তিনি নীতিগতভাবে সঠিক মনে করেননি।
তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, তার এই অবস্থান কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি কাঠামোগত ব্যবস্থার সমালোচনা। তার মতে, যারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, তারা ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন এবং প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের সেই ধরনের জবাবদিহির কাঠামো থাকে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। তাই সংরক্ষিত আসন থাকলে সেগুলোকেও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাত্র ১৯ দিনের প্রচারে, কোনো পোস্টার বা বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়া এবং নির্ধারিত ব্যয়সীমা মেনে তিনি ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের দিন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা নথিভুক্ত করে ফলাফল মেনে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি কখনো সংসদে যাওয়ার সুযোগ আসে, তবে তা অবশ্যই জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমেই হতে হবে। সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করেন। ওই আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হন।








