সীমান্তে হত্যা-কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে নাসীরুদ্দীনের স্ট্যাটাস

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত হত্যা এবং নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেছেন, সীমান্তে বিভেদের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ শুধু দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করবে।
সোমবার (১১ মে) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী উল্লেখ করেন, সীমান্ত কেবল ভূখণ্ড বিভাজনের একটি রেখা নয়; এটি মানুষের জীবনযাপন, পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক সংযোগের অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা মানবিক মূল্যবোধকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ও সভ্য বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, মানবিকতা এবং দায়িত্বশীল কূটনীতির ভিত্তিতে। ভয়ভীতি, গুলি কিংবা বিভেদের দেয়াল দিয়ে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলেও মত দেন তিনি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার আলোকে প্রতিটি মানুষের জীবন ও মর্যাদা সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।
দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। তাই এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা পারস্পরিক অবিশ্বাস, দূরত্ব কিংবা অস্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি সীমান্ত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সীমান্ত এলাকায় নতুন করে বিভেদমূলক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন সংঘাত নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা।
বিজ্ঞাপন









