হাসিনার পরামর্শে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে

কর্নেল অলি আহমদ দাবি করেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ কাজ করেছে এবং এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শও ছিল। তার অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১০ মে) রাতে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুললেও তাদের জোট আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে মত দেওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ‘দীক্ষিত’ হয়ে এবং শেখ হাসিনার পরামর্শে সেখানে ভোটে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর থেকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানদের নির্যাতনের নানা দৃশ্য তিনি দেখেছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারকে চাটুকার পরিবেষ্টিত বলয় থেকে বের হয়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
কর্নেল অলি আরও বলেন, শুধু ক্ষমতার জোরে দীর্ঘসময় টিকে থাকা সম্ভব নয়। জনগণের সমর্থন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা যায় না। দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে সংকট আরও গভীর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকেও এগোতে পারে। একইসঙ্গে দেশে সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই রাজনীতিক।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনি। তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং তথাকথিত ‘ডি-ফ্যাক্টো’ প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন।







