Logo

কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া গরিবের অধিকার: জেডিপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মে, ২০২৬, ২০:০৯
কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া গরিবের অধিকার: জেডিপি
ছবি প্রতিনিধি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃক বিদ্যুতের মূল্য ও স্ল্যাব কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবকে ‘গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্তবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও নীতিগত ব্যর্থতার দায় গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ধনিক শ্রেণীর তুলনায় কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া গরিব মানুষের ন্যায্য অধিকার।

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নামে গরিবের পকেট কাটার প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে’ জেডিপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুতের দাম ও স্ল্যাব কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা আদায়ের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

নাঈম আহমাদ বলেন, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রয়োজন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুতের ব্যবহারভিত্তিক নতুন স্ল্যাব কাঠামো এমনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কম ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

তিনি বলেন, শহরের ছোট বাসা, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর বড় অংশ মাসে ১০০ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই শ্রেণির মানুষের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত সংকট উৎপাদনের ঘাটতির কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুর্নীতি, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অপচয়ের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি থাকা সত্ত্বেও জনগণকে লোডশেডিং ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ সহ্য করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে একের পর এক উচ্চমূল্যের তেলভিত্তিক ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অনেকগুলো অলস পড়ে থাকলেও মালিকদের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। এখন সেই ব্যর্থ নীতির দায় গরিব ও মেহনতি মানুষের বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে আদায়ের চেষ্টা চলছে।

সভায় নাঈম আহমাদ বলেন, দেশে আয়বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে সীমিত আয়ের মানুষ নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ে চাপে আছে অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নতুন প্রস্তাব তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি বলেন, “যে পরিবার কষ্ট করে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেয়, তাদের কাছ থেকেই আবার অতিরিক্ত হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, বিলাসপণ্য নয়।”

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎকে মৌলিক নাগরিক সেবার বদলে ধীরে ধীরে মুনাফানির্ভর খাতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও অপচয় বন্ধ না করে বারবার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।

প্রতিবাদ সভা থেকে জেডিপি কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—

১. বিদ্যুতের দাম ও স্ল্যাব কাঠামো পরিবর্তনের গরিববিরোধী প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

২. গরিব মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের লাইফলাইন ট্যারিফের স্ল্যাব ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে।

৩. বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অস্বচ্ছ চুক্তির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪. ক্যাপাসিটি চার্জনির্ভর নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে জনগণবান্ধব জ্বালানি নীতি গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৫. নবায়নযোগ্য ও স্বল্পব্যয়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

৬. পোস্টপেইড মিটারের মতো প্রিপেইড মিটারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য মাস শেষে স্ল্যাব উল্লেখসহ এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।

জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব আলী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মানিক সরকার প্রমুখ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD