Logo

আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯
আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারের গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, কেবল সংবিধান সংশোধন নয়; গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সংবিধানে মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

বিজ্ঞাপন

এনসিপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলটির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানে সীমিত সংশোধন এনে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য গণভোটের রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক পরিষদ গঠনের দাবি অব্যাহত থাকবে।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে। তাদের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি নয়, বরং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনই হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দল শুরু থেকেই বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়ার বিপক্ষে ছিল। তিনি দাবি করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকেই তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাই সেই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত এ সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণভোটে এসব প্রস্তাবের পক্ষে জনসমর্থন এলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী জোটের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সনদের কয়েকটি বিষয়ে নিজেদের ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী জোটের দাবি, গণভোটে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।

এদিকে গণভোট-পরবর্তী বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি সেই শপথে অংশ নেয়নি। ফলে পরিষদটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচনের পর সরকার জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে হরতাল, অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত গণভোটের ফল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তাহলে সংসদের ভেতরেই সমাধানের সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় জুলাই আন্দোলনের অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে সদস্য মনোনয়নের আহ্বান পেলেও তাদের দল কোনো নাম দেয়নি। কারণ, তারা সংশোধনের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে তাদের অভিযোগ।

তিনি আরও জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১-দলীয় জোট ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করেছে। সিলেটে পরবর্তী কর্মসূচির পর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশ থেকেই আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা এবং চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে এনসিপিও দলীয়ভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তার ভাষ্য, জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD