Logo

মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে কটূক্তি, তদন্ত ও শাস্তির দাবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুন, ২০২৬, ২০:৪৬
মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে কটূক্তি, তদন্ত ও শাস্তির দাবি
ফাইল ছবি।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জামায়াত নেতা সোলায়মান আল নাহিয়ানিসের বক্তব্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর প্রতি অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষপ্রসূত মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন এবং মহাসচিব অধ্যক্ষ স. উ. ম. আবদুস সামাদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ইসলামের ইতিহাসে নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহপ্রদত্ত পথপ্রদর্শক এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ইসলামের প্রথম সারির নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক, যাঁদের ত্যাগ, কুরবানি, আনুগত্য ও আদর্শের ভিত্তিতেই মুসলিম উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নির্মিত হয়েছে। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মর্যাদাবোধ মুসলমানদের ঈমান-আকীদার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবী (দ.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়তে পারে না। বরং তা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত, সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং উম্মাহর ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তাঁরা আরও বলেন, যে কেউ পথভ্রষ্ট হতে পারে, অপরাধী হতে পারে। কোন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কখনও অপরাধী পক্ষাবলম্বন করতে পারে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিপদগামী, পথভ্রষ্ট ও দুশ্চরিত্রের অধিকারী এক ছাত্রশিবির নেতার পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত কর্মী ইসলামের পবিত্র ইতিহাস, মহানবী (দ.) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার শামিল।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা ব্যক্তিগত প্রচারণার স্বার্থে ইসলামের পবিত্র ব্যক্তিত্বদের অবমাননা শুধু অনৈতিকই নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ধরনের বক্তব্য ঘৃণা, উসকানি ও অস্থিরতার জন্ম দেয়, যা একটি সভ্য, শান্তিপ্রিয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজের জন্য অশনিসংকেত।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি জানায় তারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় পবিত্রতা, ইসলামী মূল্যবোধ এবং মুসলিম উম্মাহর আবেগ-অনুভূতিকে অবমাননা করার দুঃসাহস না দেখায়।

নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যুতে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ইসলামের শিক্ষা শান্তি, প্রজ্ঞা, শালীনতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা। তাই আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.), আহলে বাইত, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং ইসলামের পবিত্র আদর্শ ও মূল্যবোধের সম্মান রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করবে, ইনশাআল্লাহ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD