জনগণের দাবি নিয়েই এসেছি, কাউকে অসম্মান নয়: জামায়াত আমির

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা পুলিশের বাধার মুখে থেমে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে বক্তব্য দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করতে আসেননি; জনগণের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেই এই কর্মসূচি পালন করছেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পদযাত্রাটি সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে অগ্রযাত্রা বন্ধ করে দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, বরং একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানেও সমান্তরাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এসে দাবিপত্র গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি প্রশাসন পদযাত্রা এগোতে না দেয়, তাহলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো মন্ত্রী বা প্রতিনিধিকে বাইরে এসে জনগণের দাবি গ্রহণ করতে হবে। জনগণের পক্ষে সেই দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিতে চান বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তারা সেটিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করবেন। তবে জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
জামায়াতের আমির বলেন, তারা সরকার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে আসেননি। বরং সম্মানজনক উপায়ে জনগণের বক্তব্য তুলে ধরতে চান। এ জন্য সরকারের প্রতিনিধি আসার সুযোগ দিতে ঘটনাস্থলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করার কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, যেন তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ও দাবিগুলো পৌঁছে দেন।
বিজ্ঞাপন
১১ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাদের মূল দাবির মধ্যে ছিল জ্বালানি সংকট নিরসন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের সমাধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে নজরদারি জোরদার করেন।








