Logo

হাসিনা পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অধিকাংশই বিদেশে, কে কোথায়?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:১৩
হাসিনা পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অধিকাংশই বিদেশে, কে কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগে ও পরে তার পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অধিকাংশই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া পরিবারের কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

শেখ হাসিনার পরিবারের বাইরে নিকটাত্মীয়দের বড় একটি অংশও দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও সেখানে অবস্থান করছেন। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহও সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে জানা গেছে। তিনি নিয়মিত ভারতের রাজস্থানের আজমির শরিফ দরগায় যাতায়াত করতেন। সেখানে তার মেয়ে বসবাস করেন এবং তিনি একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ভারতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে বলেও একাধিক সূত্রের দাবি। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে যান।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। তার বাবা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দুজন মিলে বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন।

শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকছেন। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD