Logo

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সামাজিক মাধ্যমেও কি নিষেধাজ্ঞা?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সামাজিক মাধ্যমেও কি নিষেধাজ্ঞা?
শেখ হাসিনা | ফাইল ছবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কি শুধু প্রচলিত গণমাধ্যমের জন্য, নাকি ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ৫ আগস্ট দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন।

সরকার ও ট্রাইব্যুনালের অবস্থান

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যের আগে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের বিদ্যমান নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কেউ যদি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ করে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর রাখাই সরকারের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আদালত অবমাননা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়াতে পারে—এমন বক্তব্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দিল্লির অনুষ্ঠানে কী করবেন শেখ হাসিনা?

অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে রয়েছে করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত আমন্ত্রণপত্রে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

শুরুতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। তবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছেন, তিনি ভিডিওতে নয়, ভার্চুয়ালি অডিও বার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, দল কখনোই ভিডিওতে অংশগ্রহণের কথা বলেনি; শুরু থেকেই অডিও সংযোগের বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল।

কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি উত্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে এমন আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠান ভারত সরকারের কোনো সরকারি আয়োজন নয় এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

বিজ্ঞাপন

সরকারি সতর্কবার্তার পরও আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকানো সম্ভব হবে না। তার মতে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ বক্তব্য শুনতে পারবে এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও তা প্রচার করা হবে।

আদালতের নির্দেশনায় কী বলা আছে?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারও এক বিবৃতিতে জানায়, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো সংবাদমাধ্যম বা ব্যক্তি এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সরকারি বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা তাদের নেতাদের বক্তব্য প্রচার, প্রকাশ কিংবা সম্প্রচার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমও কি একই নিয়মের আওতায়?

বিজ্ঞাপন

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা শুধু টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা অনলাইন পোর্টালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)সহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যদি কোনো বক্তব্য আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী, বিদ্বেষমূলক বা আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সেটি প্রচারকারী ব্যক্তি বা প্ল্যাটফর্মও আইনি জবাবদিহির আওতায় আসতে পারে।

অতীতেও ছিল এমন নজির

বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারেও আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থাতেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নিয়মিত বক্তব্য দিতেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি নির্দেশনা, সরকারের অবস্থান এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD